May 16, 2026, 10:47 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
জুনের আগে নিয়ন্ত্রণে আসছে না হাম, উদ্বেগে স্বাস্থ্যখাত জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিনে/রাজশাহীতে আম অর্থনীতির চাকা ঘুরতে শুরু একদিনে ১০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভাইস চ্যান্সেলর, ইবিতে প্রফেসর মতিনুর রহমান গাংনীতে ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চুরির অপচেষ্টা, ভাঙচুর ও তছনছ খোকসায় খাল খনন প্রকল্পের এক্সকেভেটরে অগ্নিসংযোগ, দুটি মেশিন পুড়ে গেছে মানচিত্র প্রকাশ করে ট্রাম্প বললেন ভেনেজুয়েলা, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য’ ! একনেকে অনুমোদন পেল ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত: বাড়ছে জামানত, বাদ যাচ্ছে দলীয় প্রতীক নীরব শিশু মৃত্যুর মিছিলে সামিল সবাই? দায় খোঁজার দায়হীন এক সমাজ ঈদ উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকান-বিপণিবিতান

জুনের আগে নিয়ন্ত্রণে আসছে না হাম, উদ্বেগে স্বাস্থ্যখাত

Oplus_16908288

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই; বরং জুন মাসের আগে হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলেও আক্রান্ত শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ৭ হাজার ৪১৬ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪০ হাজারের বেশি শিশু। ইতোমধ্যে ৪৫১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৭৪ জন নিশ্চিত হামে মারা গেছে এবং বাকিরা হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র সরকার বলেছেন, জুনের প্রথম দিক থেকে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু শিশু এখনও টিকার বাইরে রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় টিকা নেওয়ার পরও তাৎক্ষণিক সুরক্ষা তৈরি হয় না। আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান জানান, টিকা নেওয়ার তিন থেকে চার সপ্তাহ পর শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে শুরু করে। তাই টিকাদানের পূর্ণ সুফল পেতে সময় লাগছে।
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হচ্ছে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া। আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ নিউমোনিয়ায় ভুগছে এবং অনেকের আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোসতাক হোসেন বলেন, অধিকাংশ শিশু সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আসে। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক শিশুর অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। তিনি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ সুবিধা সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শফি আহমেদ মোয়াজ সতর্ক করে বলেছেন, সামনে ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, পুষ্টিহীন শিশুদের বিশেষ নজরদারিতে আনা এবং গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে। তবে চলমান টিকাদান কার্যক্রম সফল হলে জুন মাস থেকে সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net